গণতন্ত্রকে এখন টর্চলাইট দিয়ে খুঁজতে হয়: এমপি বাবলা


জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেছেন, ‘১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর আমাদের প্রয়াত নেতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ যে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন, সেই গণতন্ত্রকে এখন টর্চলাইট দিয়ে খুঁজতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় আমরা অনেকেই গণতন্ত্রের কথা বলি। গণতন্ত্র আমরা পেয়েছি সত্য। কিন্তু গণতন্ত্র আদৌ কি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে?’

বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর ওপর বিশেষ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এমপি বাবলা বলেন, ‘গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ- এ চার নীতির ওপর ভিত্তি করে ৫০ বছর আগে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। সেই স্বাধীনতার কতটুকু সুফল আমরা ভোগ করতে পেরেছি? কতটুকু পূরণ হয়েছে আমাদের প্রত্যাশা?’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে অর্থনৈতিকভাবে, অবকাঠামোগতভাবে বা রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের এক রোল মডেল। বাংলাদেশ আজ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত। কিন্তু আমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে।’

জাপার দলীয় এই এমপি বলেন, ‘সত্যিকারের সুখী-সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে স্বপ্নের সোনার বাংলা রূপে গড়ে তুলতে হবে। যে অর্থনৈতিক উন্নতি ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে, তার সুফল আরও অধিক মাত্রায় জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে হবে।’

এমপি বাবলা আরও বলেন, ‘আমাদের মাথাপিছু আয় বেড়েছে সত্য। কিন্তু তার সিংহভাগ কয়েক হাজার কোটিপতির ঘরে আবদ্ধ। দেশের অর্থ কালো টাকার মালিকরা বিদেশে পাচার করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। বিভিন্ন দেশে বেগম পাড়ার মতো কালো টাকার ধনীপাড়া গড়ে উঠেছে, যা কাম্য হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘দুর্গোৎসবের সময় সাম্প্রদায়িক শক্তির যে আস্ফালন দেখেছি, তা স্বাধীন বাংলাদেশে কল্পনাও করতে পারি না। এর আগে আমরা ৬৪ জেলা বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠতে দেখেছি। বাংলাভাই, আব্দুর রহমানদের উত্থান দেখেছি। জাতির পিতার ভাস্কর্য স্থাপনে বাধা দিতে দেখেছি। আমরা দেখেছি, রামু, নাসিরনগর, রংপুর, মুরাদনগর, ভোলা, শাল্লা, নোয়াখালী, পীরগঞ্জে সংখ্যালঘুদের ওপরে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক হামলা।’

বাবলা আরও বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে আমাদের প্রত্যাশা-প্রাপ্তির মাঝে যোজন যোজন ব্যবধান। স্বাধীনতার ৫০ বছরে, সে কথা বলাই বাহুল্য। তবু আমরা স্বপ্ন দেখি, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবারও একটি সত্যিকারের শোষণ, দারিদ্র্য, বঞ্চনা ও দুর্নীতিমুক্ত একটি জাতিরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যেন বিশ্ব দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াই।’

এইচএস/এএএইচ/জিকেএস



Source link

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *