ঘাটে নেই লঞ্চ, ভোগান্তি নিয়ে রাত কাটছে যাত্রীদের


জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। কখন লঞ্চ ছাড়বে— সে আশায় রাজধানীর সদরঘাট টার্মিনালে শুয়ে-বসে রাত কাটাচ্ছেন তারা।

শনিবার রাত ১০টার দিকে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বরিশাল, হাতিয়া, পটুয়াখালীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা লঞ্চ না পেয়ে মেঝেতে কোনোরকম শুয়ে-বসে আছেন। অনেকে দেয়ালে ঠেস দিয়ে কিংবা চেয়ার বসে ঝিমুচ্ছেন।

অনেকে আবার ঘোরাঘুরি করছেন। নারীরা কোনোভাবে চাদর পেতে মেঝেতে শুয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছেন। অনেকে তাদের শিশুদের ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এ ভোগান্তির মধ্যেই কেউ কেউ আবার দলবেঁধে মুড়ি-চানাচুরের আড্ডায় মেতেছেন। 

ঘাটে কথা হয় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর নিয়োগ পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসা মো. আওলাদ হোসেন নামে এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, বেশি ভাড়া দিয়ে পরীক্ষা দিতে এলাম। এত ভোগান্তি পোহাতে হবে জানলে আসতাম না। লঞ্চ বন্ধ রয়েছে। কীভাবে বাড়িতে যাব, বুঝতে পারছি না।

বরিশাল সদর থেকে চাকরির পরীক্ষা দিতে ঢাকায় আসা মো. হাসনাইন বলেন, ৫০ টাকা বেশি ভাড়া দিয়ে পরীক্ষা দিতে গতকাল ঢাকায় এসেছিলাম। বাস না থাকায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন লঞ্চের জন্য বসে আছি। কখন আসবে তাও জানি না। ঢাকায় কোনো আত্মীয় নেই। কী যে করি?
  

পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে দোকানের মালামাল নেওয়ার জন্যে ঢাকায় এসেছিলেন মো. ইদ্রিস আলী। তিনিও লঞ্চের অপেক্ষায়। ঢাকা পোস্টের সঙ্গে আলাপ হলে বলেন, দোকানের জন্য মালামাল নিতে ঢাকায় এসেছিলাম। বিকেল থেকে বসে আছি। লঞ্চ নাই। তাই এখানে শুয়ে আছি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সদরঘাট নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন ঢাকা পোস্টকে বলেন, যাত্রীদের বলে দেওয়া হয়েছে, ভাড়া না বাড়া পর্যন্ত ঘাটে কোনো লঞ্চ আসবে না। রাতে যারা ঘাটে অবস্থান করছেন, তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমাদের আনসার, নৌ-পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। 

গত বুধবার রাতে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করে সরকার। এর প্রতিবাদে এবং ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকে বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখেন মালিকরা। একই দিন লঞ্চমালিকরা ভাড়া দ্বিগুণের দাবি তুলে আল্টিমেটাম দেন। 

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে ঘাট থেকে লঞ্চ সরিয়ে নেন মালিকরা। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (যাত্রী) অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ঢাকা পোস্টকে জানান, লঞ্চে কোনো ধর্মঘট চলছে না। তাদের পক্ষ থেকে ধর্মঘটের কোনো ডাক দেওয়া হয়নি। তেলের দাম বাড়ায় আগের ভাড়ায় মালিকদের পক্ষে লঞ্চ চালানো সম্ভব নয়। 

শুক্রবার বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন (যাত্রী) অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠকে বসার কথা ছিল। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ভাড়ার বিষয়টিও জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘কোনো বৈঠকের দরকার নেই।’ তিনি একটি প্রস্তাবনা চেয়েছেন। এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে জানিয়েছেন।  

এদিকে, রোববার বিকেলে লঞ্চভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বিআইডব্লিউটিএর কর্তাদের সঙ্গে বসার কথা রয়েছে মালিকদের। সর্বশেষ খবরে এমনটাই জানা গেছে।  
 
এমটি/আরএইচ



Source link

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *