ধর্মঘট থেকে ফিরে ইচ্ছামতো বাস ভাড়া আদায়


রোববার বিকালেই বাস ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সন্ধ্যায় আবার ভাড়া বাড়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণার পরই রাজধানীতে ইচ্ছামতো বাস ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫ টাকা, যা আগে ছিল ১০ টাকা। পরিবহণ ধর্মঘট তুলে নেওয়ার পর আজ (রোববার) সন্ধ্যায় রাজধানীতে বাস চালু হলে আগের চেয়ে ৫০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

যদিও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে পরিবহণ মালিক সমিতির বৈঠকে মহানগরে ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে সারা দেশে তিন দিন ধরে চলা ধর্মঘটের মধ্যেই রোববার সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার বনানীতে বিআরটিএ দপ্তরে পরিবহণ মালিকদের সঙ্গে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক শেষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ডিজেলের দাম বাড়ানোয় বাস ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে। দূরপাল্লার প্রতি কিলোতে ১ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মহানগরে প্রতি কিলোতে ২ টাকা ১৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামীকাল (সোমবার) থেকে নতুন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।  বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহানগরে বাস ভাড়া সর্বনিম্ন ৮ এবং ১০ টাকা করা হয়েছে। তবে সিএনজিচালিত কোনো গাড়ির ভাড়া বাড়বে না।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন বাস মালিক-শ্রমিকরা। নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া নিচ্ছেন যাত্রীদের কাছ থেকে।

এয়ারপোর্ট-বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিবহণ লিমিটেড গুলিস্তান থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ১৫ টাকা করে ভাড়া নিচ্ছে। বাসটির চালকের সহকারী মো. সাব্বির হোসেন একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গুলিস্তান থেকে ফার্মগেটের ভাড়া ১০ টাকার জায়গায় ১৫ টাকা নিতেছি। আমাদের এই ভাড়া নিতে বলছে বইলাই নিচ্ছি। কাল (সোমবার) ভাড়ার চার্ট টাঙানো অইব।’

এই পরিবহণের বাস গুলিস্তান থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্তও যায়। সেখানেও ৫০ শতাংশের বেশি ভাড়া আদায় করছে তারা। বাস যাত্রীরা জানান, গুলিস্তান থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত আগে ভাড়া ছিল ৩৫ টাকা, কিন্তু এখন ৫৫ টাকা নিচ্ছে। এজন্য তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

আরেক যাত্রী বলেন, তিনি গুলিস্তান থেকে খিলক্ষেত যাচ্ছিলেন একটি বাসে করে। আগে ভাড়া ছিল ২৫ টাকা।  কিন্তু আজ (রোববার) ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণার পরই ৪০ টাকা নিচ্ছে। এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছে ৫০ টাকা।

যাত্রীরা বলছেন, বাসভাড়া বৃদ্ধির সরকারি গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। কিন্তু সরকারি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এভাবে বাসভাড়া বৃদ্ধি গরিবের ওপর বোঝা চাপানোর সমান।

গত ৩ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ থেকে ৮০ টাকা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ওইদিন রাত ১২টা থেকেই কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয় প্রজ্ঞাপনে। পরদিন থেকেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দেশের মানুষ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলসহ সামাজিক সংগঠনগুলোও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। 

ডিজেলের দাম বৃদ্ধি প্রতিবাদে শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সকাল থেকে সারা দেশে ধর্মঘট শুরু পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা। এই পরিবহণ ধর্মঘটে সারা দেশ অচল হয়ে পড়েছে। তিন দিন ধরে পরিবহণে ধর্মঘটে জিম্মি রয়েছেন সাধারণ মানুষ। শিকার হচ্ছেন সীমাহীন দুর্ভোগের।

এ অবস্থায় পরিবহণ মালিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার প্রেস ব্রিফিংয়ে এসে বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। আর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।



Source link

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *