বাড়ি ফেরার দুশ্চিন্তা নিয়ে টার্মিনালে ‘অপেক্ষা’, বিকল্প গাড়িতে দ্বিগুণ ভাড়া


শনিবার দিনভর রাজধানী ঢাকার বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ম্লানমুখে বসে থাকা এমন অনেক যাত্রীর দুর্ভোগের খণ্ড খণ্ড চিত্রের দেখা মিলেছে।

যশোরের বেনাপোলের রহিমা বেগমকে দেখা গেল গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে। একটা পর্যায়ে গাড়ির খোঁজ না পেয়ে টার্মিনালের সামনের একটি গাছের ছায়ায় রাস্তার ফুটপাতে বসে পড়লেন।

কাছে গিয়ে জানতে চাইলে মাঝবয়সী এই নারী বলেন, মিরপুরের ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন তারা।

“হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়ার পর গাবতলীতে আসলাম বেনাপোলের বাস ধরার জন্য। বাস বন্ধ শুনেছি। তারপরও একটু আশা ছিল একটা দুইডা গাড়ি হলেও চলতে পারে। কিন্তু এভাবে একটা বাসও চলবে না তা কল্পনাও করিনি, হতাশাই ঝরে পড়ল তার কণ্ঠে।

তিনি বলেন, “সাত বছরের বাচ্চাসহ আমরা চারজন। হাসপাতালের বিল দিয়ে বাকি যে টাকা আছে তা দিয়ে কোনও রকম বাস ভাড়া হয়। কিন্তু এখন কী করব কিছুই ভাবতে পারছি না।”

প্রায় একই অবস্থা গাবতলী বাস টার্মিনালের হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে নির্লিপ্ত বসে থাকা রংপুরের মুজিবুল হাসানের।

এই তরুণ গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন সরকারি ব্যাংকের পরীক্ষায় অংশ নিতে। শুক্রবার পরীক্ষার পর বাড়ি ফিরে যেতে চাইলেও পরিবহন ধর্মঘটের কারণে পারেননি।

ভর্তি পরীক্ষা: বগুড়া থেকে বাইকে ছেলেকে নিয়ে বুয়েটে
 

সদরঘাটে এসে তারা দেখেন, লঞ্চ নেই
 

ধর্মঘটে স্থবির চট্টগ্রাম বন্দর
 

হতাশ কণ্ঠে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিন বন্ধুর সঙ্গে মেসে ছিলাম। কিন্তু আরও একরাত থাকব এ পরিবেশ সেখানে নেই। তাই বন্ধুর পরামর্শে যে কোনোভাবে বাড়ি চলে যাওয়ার জন্য এসেছি।

“সকাল থেকে সম্ভাব্য সব পরিবহনের কাউন্টারে গিয়ে চেষ্টা করলাম। কিন্তু কোনও গাড়ি না ছাড়ায় শেষ পর্যন্ত হাল ছেড়ে বসে আছি।“

হাতে যে টাকাপয়সা আছে তা হোটেলে থাকার মতো নয় ম্লান কণ্ঠে যোগ করে তিনি বলেন, “আছে শুধু বাড়ি ফেরার মতো বাস ভাড়া। এ টাকাও শেষ হয়ে গেলে আরও বিপদে পড়ে যাব। দেখি কোনও সুযোগ আসে কি না।“

রাজধানীতে আর কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় এখানেই রাত কাটার আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও দূরপাল্লার যাত্রীদের এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

বাস না পেয়ে কেউ কেউ যেমন অপেক্ষায় রযেছেন টার্মিনালে। তেমনি অনেকে প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসে অনেক দূরের পথে রওনা দিয়েছেন।

সরকার ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে দিলে ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে শুক্রবার থেকে দেশব্যাপী ধর্মঘটে নামে বাস ও ট্রাক-কভার্ড ভ্যানসহ পণ্যবাহী যানের মালিক ও শ্রমিক নেতারা।

ধর্মঘটের কারণে শুক্রবার সকাল থেকে বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে যাত্রীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েছেন, পণ্য পরিবহনও আটকে গেছে।

বাস বন্ধ, রিকশা-অটোরিকশায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া
 

মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ট্রাক মালিক-শ্রমিকরা বললেন, ধর্মঘট চলবে
 

ধর্মঘটে বিপাকে ভারত ফেরত যাত্রীরা
 

পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে বিআরটিএ রোববার বৈঠক ডেকেছে। এর আগে সুরাহার কোন দেখছেন না কেউ।

শনিবার গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায়, কিছু কিছু প্রাইভেট কার আরিচাঘাট পর্যন্ত কয়েকগুণ বেশি ভাড়া হাঁকিয়ে যাত্রী ডাকছেন।

একটি কারের চালক হাকিম উদ্দিন বলেন, আরিচাঘাট পর্যন্ত ৪০০ টাকা ভাড়া।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই চার জন যাত্রী নিয়ে রওনা দেন তিনি।

একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসের চালক ফরিদ গাড়ী ভরলে যশোর যাবেন তিনি। ভাড়া চাইছেন ১২০০ টাকা করে। অর্থাৎ ১৮ সিটের মাইক্রোবাসে তিনি ২১ হাজার ৬০০ টাকা ভাড়া চান।

সাধারণ সময়ে ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বলে জানান উপস্থিত যাত্রীরা।



Source link

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *