শাবাশ হুদা কমিশন!


ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন বিব্রত ও উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি বলেন, সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করে মাঠপর্যায়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। কিন্তু তাঁর এ সতর্কবাণী যে কোনো কাজে লাগেনি, তার প্রমাণ নির্বাচনী সংঘর্ষে গত এক সপ্তাহে নরসিংদী জেলায় ছয়জনের প্রাণহানি।

গত ২০ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর দুই দফায় প্রথম ধাপে ৩৬৫টি ইউপির নির্বাচন হয়। দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৮৪৬টি ইউপিতে ভোট হবে ১১ নভেম্বর। এ ছাড়া তৃতীয় ধাপের ১ হাজার ৭ ইউপিতে ভোট হবে ২৮ নভেম্বর। সহিংসতার পাশাপাশি এবার ভোট ছাড়াই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার হিড়িক পড়েছে। ইতিমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ১ হাজার ২১১ ইউপির মধ্যে ১৫৪টিতে চেয়ারম্যান পদে ভোট ছাড়া নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার তৃতীয় ধাপের মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন ছিল। এই ধাপেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইউপিতে ভোট হবে না একক প্রার্থী থাকার কারণে।

যেকোনো নির্বাচনের নিয়ামক শক্তি হলো জনগণ বা ভোটার। অধুনা বাংলাদেশে সেই ভোটারদের ভূমিকাই গৌণ হয়ে পড়েছে। নির্বাচনের যেসব বিধিবিধান আছে, সেগুলো নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী কেউ মানছেন না। বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বরাবর নির্দলীয় ভিত্তিতে হতো। কিন্তু কে এম নূরুল হুদা কমিশনের মাথায় হঠাৎ ভূত চাপল যে ইউপি থেকে সিটি করপোরেশন সব স্থানীয় সরকার সংস্থার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করতে হবে। ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে তাঁরা নির্বাচনী ব্যবস্থাটিই ধ্বংস করে দিয়েছেন। তবে সিইসি বিলম্বে হলেও একটি সত্য স্বীকার করেছেন, ‘রাজনৈতিক দল, ভোটার ও প্রার্থীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়। মাঠপর্যায়ে সহনশীলতা না থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।’ কথা হলো এই সহনশীলতা আনবে কে? রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর নিশ্চয়ই ভূমিকা আছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কেউ প্রার্থী হতে পারেন না। ফলে প্রার্থী হওয়ার পর ইসির দায়িত্ব হলো তিনি বা তাঁরা নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন কি না। যদি না মেনে থাকেন, ইসি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে। প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে। এমনকি নির্বাচনটিও বাতিল করতে পারে।

যেকোনো খেলার একটা নিয়ম আছে। খেলাটি হয় মাঠে। নির্বাচন হয় ভোটকেন্দ্রে। কিন্তু হুদা কমিশন মাঠ অর্থাৎ ভোটকেন্দ্রের খেলাটি মাঠের বাইরে নিয়ে এসেছে। ভোটের দিন কী হবে না হবে, কতজন ভোটার কেন্দ্রে যাবেন, কতজন পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রে থাকবেন, সেসব নিয়ে ইসির কোনো মাথাব্যথা নেই। এরশাদ আমলে একটি জনপ্রিয় স্লোগান ছিল, ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব।’ এবারের ইউপি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে সংঘাত ও সংঘর্ষ চলছে, তাতে মনে হয় ভোটারদের প্রয়োজন নেই। ভোটকেন্দ্রের প্রয়োজন নেই। ভোটকেন্দ্রের বাইরে এক পক্ষকে বন্দুক, চাপাতি, কিরিচ, দা-বঁটি ও লাঠি দিয়ে পরাস্ত করেই নির্বাচনী রায় ছিনিয়ে নেবে।



Source link

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *