হাফ ভাড়া: নারাজ বাস মালিকরা, বৈঠকেও আসেনি সিদ্ধান্ত


বাস মালিক নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেছেন, বেসরকারি পরিবহনে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে ডিজেলের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ানোর পর পরিবহন মালিকদের চাপে বাসের ভাড়া ২৭ শতাংশ বাড়ালেও শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার বিষয়ে পরিবহন মালিকদের চাপ দিতে অনীহ সরকার।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলছেন, বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়ার মতো না।

ডিজেলের দাম সরকার ২৩ শতাংশ বাড়ানোর পর বাস মালিকরা গাড়ি নামানো বন্ধ করে দিলে এই মাসের শুরুতে জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে।

বাস ভাড়া বাড়ল ২৭%
 

৩ দিন ভুগিয়ে ভাড়া বাড়িয়ে চললো বাস-লঞ্চ
 

এরপর বিআরটিএ পরিবহন মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে বাস ভাড়া ২৭ শতাংশ বাড়ায়, যাকে বাস মালিকদের কাছে সরকারের নতি স্বীকার হিসেবে দেখছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতারা।

এরপর বাড়তি ভাড়া নিয়ে বাসে যাত্রী ও পরিবহনকর্মীদের মধ্যে বচসা চলার মধ্যে হাফ ভাড়ার পুরনো দাবি নিয়ে মাঠে নামে শিক্ষার্থীরা।

গত এক সপ্তাহ ধরে বিচ্ছিন্নভাবে তারা ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ করে আসছিল। বুধবার সড়কে সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর সেই আন্দোলন বেগ পায়।

২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনেও হাফ ভাড়ার দাবিটি ছিল। এখন সেই দাবিটি নতুন করে আসার পর তাতে রাজনৈতিকদের অনেকে এমনকি ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতাও তাতে সমর্থন দিয়েছেন।

হাফ ভাড়ার আন্দোলনে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর সমর্থন
 

শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকরের আহ্বান নানকের

হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নিন, আহ্বান ছাত্রলীগ সভাপতির
 

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বাস মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সম্মেলনে সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহ শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবি নাকচ করেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ওই সম্মেলনে থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে পরিবহন মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তেমন সাড়া পাননি।

শিক্ষার্থীদের জন্য ‘যৌক্তিক’ বাস ভাড়া নির্ধারণের আহ্বান কাদেরের

ওই সম্মেলনের পর বিআরটিএর উদ্যোগে সভা করলেও সেখানে পরিবহন মালিকদের শীর্ষনেতা সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গাঁ ও  মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ ছিলেন না। তাদের একজন সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য, অন্যজন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা।

ঢাকায় ১০০টি বাস চালিয়ে আসা পরিস্থান পরিবহনের মালিকদের একজন মো. ওয়াজউদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নিলে তারা চলতে পারবেন না।

তিনি বলেন, “আমাদের গাড়িগুলো ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে করা হয়েছে। অধিকাংশ গাড়িই এখনও ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ। নিজস্ব গাড়ি নেই বললেই চলে।

“এখন এক একটি গাড়িতে অন্তত ৫ থেকে ৭ জন স্টুডেন্ট উঠে থাকে। তাদেরকে যদি হাফ ভাড়া করে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা তো ব্যাংক ঋণই পরিশোধ করতে পারব না।”

গত কয়েক বছরে গাড়ির যন্ত্রপাতির দাম বেড়ে যাওয়া, তেলের দাম বৃদ্ধি ও গাড়ি চলাচলে প্রতিদিনের ব্যয়ও বেড়ে যাওয়াকে কারণ দেখান তিনি।

ওয়াজিউদ্দিন বলেন, “আমাদের গাড়ি মালিকদের অনেকেই তিন বছর আগে লোন নিয়েছেন। এই লোনের সুদ ১৪ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে।”

তবে ডিজেলের দামের তুলনায় ভাড়া বেশি বাড়ানোর দিকটি নিয়ে কোনো কথা পরিবহন মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এনায়েত বলেন, “বেসরকারি খাতে গাড়িতে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া নেওয়ার কোনো প্রভিশন নেই। সেটি বিআরটিসিতে আছে।”

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাদেরই ছেলে-মেয়ে। আমি মনে করি করোনাকালীন দীর্ঘ সময় তারা পড়ালেখা করতে পারেনি। তারা পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী হবে, এটা আমাদের অনুরোধ থাকবে।”

“বেসরকারি খাতে শিক্ষার্থীদের থেকে হাফ ভাড়া নেওয়ার প্রভিশন কখনও ছিল না, এখনও নেই,” বলেন তিনি।

তবে এক সময়ের ছাত্রনেতা ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলছেন, পাকিস্তান আমলেও তারা গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার সুযোগ পেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে ছাত্ররা কনসেশন ভোগ করে থাকে। আমরাও পাকিস্তান আমলে যখন ছাত্র ছিলাম, এই কনসেশন পেয়েছি।”



Source link

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *